মুক্ত গদ্য - বানান সতর্কতা - দীপ দাশ নিশান

 



মুক্ত গদ্য - বানান সতর্কতা

দীপ দাশ নিশান
আমরা সবাই মানুষ, মানুষের মধ্যে আমাদের একটা জাত আছে, সেটা হলো আমরা বাঙ্গালী। বাঙ্গালীর পরিচয় তার নিজস্ব সংস্কৃতি আর ভাষায়।
সংস্কৃতি নিয়ে না হয় আরেক দিন লিখবো, আজকে ভাষা নিয়ে একটু বলি। এই লিখাই আমার মূলসূত্র “বানান।”
মনে করুন, আপনি পাশের বাসার মহিলাকে জিজ্ঞেস করলেন- আন্টি, আজকে কী রান্না হলো?
এখানে একটু কথা বলি-
“আন্টি” শব্দটা যদিও ইংরেজী, আমরা বাংলায় এমনভাবে নিয়ে এসেছি যেন আমাদের দাদুর দাদুরা এটা বলতো। যদি আপনি ওই মহিলাকে এভাবে বলেন- খালা/পিসি/মাসি আজকে কী রান্না হলো?
উনি একটু রাগ করবেন, স্বাভাবিক। কারণ এই যে খালা/পিসি/মাসি এসব ক্ষ্যাত মার্কা শব্দ, শহুরে জীবনে এসব মানাই না। কিন্তু বিপরীত ভাবে গ্রামে কাউকে আন্টি ডাকেন তো দেখি, আপনাকে হয় বাবুসাহেব নয়তো ইংলিশ ম্যান উপাধি দিয়ে দিবে। ব্যাপারটা অনেকটা সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিচন্দ্রের “রচনার শিল্পগুণ” প্রবন্ধের মতো।
আচ্চা, প্রশ্নটার উত্তর কী? হোক না আন্টি/খালা।
তা মহিলাটার উত্তর- বাবা, আজকে কিচেনে বসে চিকেন রান্না করলাম।
উনার উত্তরটা একজন খাঁটি বাঙ্গালীর মনঃপুত হবে না জানি আমি। কারণ, রান্নাঘরের স্থলে কিচেন আর মুরগীর স্থলে চিকেন, দুটো শব্দই বাংলিশ মানে জগাখিচুড়ি পাকিয়ে ফেলেছে।
মেয়েবন্ধুকে নিয়ে রেস্তোরায় গেলেন। পরিমাণমতো ভাত শেষ হওয়ার পর আপনার গফ তথা মেয়েবন্ধু বললেন- রাইস প্লিজ!
এখানে, প্লিজ- শব্দটাকে উপরের “আন্টি” শব্দের সাথে তুলনা করুন। এবার আসি, “রাইস” শব্দে।
“মা, ভাত খাবো” না বলে “মা, রাইস খাবো”- কোনটা ভালো বলতে আর কোনটা ভালো শুনতে আপনারাই বিবেচনা করুন। ইংরেজী বলতে গেলে পুরো বাক্যটায় ইংরেজীতে বলেন। হ্যাঁ, টুকটাক শব্দ যেমন- মোবাইল, অর্ডার, রেস্টুরেন্ট এসব না হয় মানা যায়। কারণ, আপনি যদি দোকানে গিয়ে বলেন- একটা দূরালাপনি দেখান। তাহলে দোকানদার না বুঝার সম্ভাবনা বেশি। আমাদের দেশে শিক্ষার বিচার কিন্তু বিদ্যার চেয়েও পোশাক আর ভাষাকে দেখে করা হয়, যদিও এটা জঘন্য ব্যাপার।
আমাদের হিন্দুরা বিশেষত দুর্গোৎসবে একটা ভুল প্রায়শই করে থাকে, যেমন ব্যানারে দেবীর ছবি অঙ্কনপূর্বক লিখা থাকে- “সার্বজনীন দূর্গা পূজা।”
সার্বজনীন মানে শ্রেষ্ঠ বা প্রবীণ ব্যক্তি আর সর্বজনীন মানে সকলের জন্য হিতকর। আবার, দূরত্ব বুঝালে দ+ঊ কার হয় যেমন- দূরবীক্ষণ, দূরবর্তী। কিন্তু দুর্গা তো কারও নাম বুঝায়। আবার ব্যাকরণ মতে দ+উ কার হয় দূরত্ব ব্যতিরেকে সব কিছুতেই। তার মানে শুদ্ধটা হলো- “সর্বজনীন দুর্গা পূজা।”
আর মুসলিমদের অনুষ্ঠানে ওরস, উরস, ওরশ নিয়ে হয় বিপদ। একেক ব্যানারে একেক রকম বানান দেখেছি, তাই বাঙ্গালী হিসেবে একদম সঠিকটা জানা এবং জানানোর জন্যই উপরের শব্দগুলো বিশ্লেষণ করছি।
ওরস/উরস হলো আরবি শব্দ যা সূফী সাধকদের দরগা বা মাজারে কিংবা সমাধিতে অনুষ্ঠিত এক প্রকার অনুষ্ঠান। আর ওরশ হলো ফার্সি শব্দ যার মানে বিয়ে বা বাসর। তাহলে অনুষ্ঠানে ওরশের পরিবর্তে ওরস শব্দটাই লিখা উচিত মনে করি। এখানে
আরও একটা শব্দ আছে- ঔরশ। ঔরশ মানে কিন্তু উপরের এসব কিছু না, ঐ যে বলে না- মায়ের ঔরশ জাত সন্তান; সেই ঔরশ টাই বুঝায়।
শব্দের পার্থক্যগুলো সব ইন্টারনেট থেকে নেয়া। আমার পক্ষ থেকে আমার উপলদ্ধিটাই আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম। তবুও যদি আমার লিখাই কোনো ত্রুটি থাকে, আমাকে জানাতে ভুলবেন না।
Dip Das Nishan

Post a Comment

0 Comments